সতাই মা
সামীউল ইসলাম শামীম
আসিছে,আসছে, দাওয়াতের দিন।
টুকু দাওয়াত খেতে, গায়ে দিয়ে শাড়ি!
বলেছে মাকে,
"সতাই মাগো,
যাবে কী তুমি দাওয়াত খেতে?"
দাওনা তোমার, লাল বেনারসি শাড়ি?
সতাই মা দিয়ে দিল, শর্ত আরোপ করে,
লাগানো যাবে না, শাড়িতে আমার চুন?
বেস নিয়ে গেল শাড়ি; গেল বিয়ে বাড়ী,
বান্ধবী কাঁজলি, বড়িয়ে দিল চুন?
দাওয়াত খেয়ে, চলে গেছে বাড়ি;
সতাই মা কহিল
'টুকু এটা তুই কী করলি?'
টুকু 'কী করিলাম তোমারি?'
এসেছে কেমনে চুন!
করতে পারলি আমারে খুন?
কাঁজলি আর টুকু, করিয়াছে ফর্দ-ফিকির,
সতাইকে নিয়ে গেল, বাণিবে ধান,
কাড়িতে চাল? শেষে নিয়ে গেছে তাকে;
যখন কাড়িবে চাল, দিয়ে দিল ধাক্কা,
লুটে? কড়িয়ে ফেলেছে খুন?
লাস রাখিবে কোথায়,
পুতিয়ে রাখিল,
গোবরের গর্তে।
গেড়ে দিয়েছে উপরে মরিচের গাছ,
কেউ কী পারিবে বুঝতে,
নিচে পুতে রাখা সতাই মায়ের লাস?
কেটে গেছে চার মাস, বলিয়াছে লোকে,
কিরে টুকু, তোর সতাই মা,
দেখি না তার বাস।
বলিল সে,চলিয়া গিয়েছে ছাড়িয়ে আমায়,
নিয়ে যায়নি সাথে করে,
করে গেছে আমার কী সর্বনাশ।
এভাবে কেটে যাচ্ছে দিন;
মরিচের গাছে গিয়েছে টুকু,
আনি করবে রান্না! অমনি গাছের ভীতর থেকে,
উঠে আসে শব্দ,
মাগো মা, আগায় ধরিও না,
গোড়ায় বেথা পাই;
সতাই মায়ের কাপড়ে,
বড়িছে চুন, কেটে গেল খুন?
হঠাৎ চমকে উঠল,টুকু, গাছে কী কথা বলে!
এভাবে সে যেখানে আনতে,
যায় সুপারি,হলুদ, আঁদা,ডাব, আরও কত কী?
বাব বার একই কথা বলে, বলি চাহেই বা কী?
ডাকিয়া আনিল, বিশ-পঞ্চাশ জন,
গ্রাম পঞ্চায়েত; বলিয়াছে কেবা সব,
বিস্তারিত খুলিয়া। সকলেই তুলিল,
'সতাই মা' কে, করিয়া দিয়েছে মাটি,
শেষ হয়ে গেছে আমার লেখা,
সতাই মা ছোট কবিতাটি।