শূন্য চিরকুট
সামীউল ইসলাম শামীম
তোমার পাঠানো শূন্য চিরকুট,
কাগজের ভাঁজে লুকানো এক গভীরতা।
না লেখা কোনো শব্দ,
না আঁকা কোনো রেখা—
তবু যেন বলতে চায়
অগণিত না বলা কথা।
এই চিরকুট কি অভিমান?
না কি অব্যক্ত ভালোবাসার ভাষা?
আমি খুঁজে ফিরি ভাঁজের ভেতর
তোমার হৃদয়ের চিহ্ন।
তুমি কি জেনেছো,
এ শূন্যতাই আমার কাছে
সবচেয়ে গভীর বার্তা হয়ে উঠেছে?
তোমার নীরবতার ভারে
চিরকুটের প্রতিটি কোণা জড়িয়ে যায়।
আমি প্রতি রাতে হাতে নিই,
পড়ে ফেলি সেই শূন্যতার কবিতা।
তোমার না লেখা কথাগুলো
আমার মনের ক্যানভাসে রঙ হয়ে ওঠে।
তুমি ফিরে আসো না,
তবু চিরকুটটা থেকে যায়।
তোমার না বলা কথা আর
আমার না শোনা গল্প নিয়ে,
এই শূন্য চিরকুটটাই
আমার একমাত্র সঙ্গী হয়ে ওঠে।
শূন্য চিরকুট পর্ব -২
তোমার পাঠানো শূন্য চিরকুট,
বাতাসে ভাসে অদৃশ্য কোনো ভাষা।
শব্দহীন, রেখাহীন, তবু যেন
আমার হৃদয়ে বাজে গভীর এক সুর।
কি বলতে চেয়েছিলে তুমি?
কেন শব্দেরা হারিয়ে গেল?
তোমার নীরবতাই কি ছিল
সব অনুভূতির শেষ উত্তর?
আমি প্রতিদিন খুলি সেই চিরকুট,
শূন্যতার ভাঁজে খুঁজি তোমার ছোঁয়া।
তোমার না লেখা কবিতার প্রতিটি লাইন
আমার মনের কল্পনায় লেখা হয়ে যায়।
তুমি কি অভিমান করে পাঠিয়েছিলে ওটা?
নাকি ভালোবাসার ভারে
তোমার কলম থেমে গিয়েছিল?
আমি উত্তর পাই না,
তবু তোমার শূন্যতা
আমার কাছে এক পূর্ণতা নিয়ে আসে।
আজও সেই চিরকুট পড়ে থাকে,
তোমার মতোই নীরব, অথচ উপস্থিত।
আমি জানি,
শূন্যতাই তোমার আসল বার্তা।
তোমার নীরবতার গভীরতায়
আমি খুঁজে পাই আমার হারানো পৃথিবী।
শূন্য চিরকুট পর্ব -৩
তোমার নামহীন বার্তা হয়ে,
আমার হাতের মুঠোয় এসে থামে।
না লেখা কোনো শব্দ,
না আঁকা কোনো ছবি—
তবু এর ভাঁজে লুকিয়ে থাকে
অজানা এক আবেগের ভার।
আমি তাকিয়ে থাকি,
তোমার নীরব বার্তাটার দিকে।
যেন বাতাসের সঙ্গে মিশে থাকা
এক টুকরো না বলা গল্প,
যার শুরুতে তুমি,
শেষেও তুমি।
চিরকুটটা শূন্য হলেও
আমি স্পষ্ট দেখতে পাই
তোমার চোখের ভাষা।
তোমার সেই অমলিন হাসি
যা একদিন আমার পৃথিবী সাজিয়েছিল।
কিন্তু কেন শূন্য?
কেন কোনো শব্দ নেই?
তুমি কি বলতে চেয়েছিলে কিছু,
নাকি নীরবতাই ছিল
তোমার সমস্ত উত্তর?
এই শূন্যতার মাঝেই
আমি খুঁজে ফিরি তোমাকে।
প্রতিটি ভাঁজে,
প্রতিটি নিঃশব্দ বিন্দুতে।
তুমি হয়তো ভাবোনি,
শূন্যতাও এত কিছু বলতে পারে।
আজও সেই চিরকুট
আমার ড্রয়ারে পড়ে আছে,
তোমার স্মৃতির মতো।
তুমি যদি আরেকবার পাঠাতে,
কিছু না লিখেও,
তবু আমি বুঝতাম—
এই শূন্যতাই তোমার উপস্থিতি।
শূন্য চিরকুট পর্ব -৪
তোমার অব্যক্ত অনুভূতির সাথী হয়ে,
আমার সামনে পড়ে থাকে।
যেন শব্দহীন এক কবিতা,
যার প্রতিটি ছত্রে মিশে আছে
তোমার নিঃশ্বাসের ছোঁয়া।
আমি কতোবার খুলেছি ওটা,
চোখ বুলিয়েছি প্রতিটি কোণায়।
তবু কিছু পাইনি,
শুধু এক অদৃশ্য ইশারা,
যা হয়তো বলতে চায়
তোমার অনন্ত অপেক্ষার কথা।
তুমি কি জানো?
এই শূন্যতাই আমার জন্য
এক পৃথিবীর সমান ভারী।
এর ভাঁজে লুকিয়ে আছে
তোমার নীরব অভিমান,
তোমার না বলা ভালোবাসা।
আমি কতবার ভেবেছি,
তোমাকে উত্তর দিই,
একটি চিরকুট লিখে পাঠাই—
কিন্তু কী লিখি?
কোন শব্দে বেঁধে রাখি
আমার হৃদয়ের অস্থিরতা?
তবু, শূন্য চিরকুটটা আজও
আমার টেবিলের ওপর পড়ে থাকে।
প্রতিটি রাত, প্রতিটি ভোরে
তার শূন্যতা আমাকে শোনায়
তোমার অস্তিত্বের গভীর সুর।
যদি কখনো ফিরেও আসো,
আমি হয়তো আর কিছুই বলবো না।
শুধু এই শূন্য চিরকুটটা
তোমার হাতে তুলে দেবো—
তুমি পড়ো তার শূন্যতায় লেখা
আমার সমস্ত প্রতীক্ষা।
শূন্য চিরকুট পর্ব -৫
তোমার নীরবতার অক্ষরহীন ভাষায়,
আমার প্রতিদিনের সঙ্গী হয়ে ওঠে।
যেন তাতে লেখা আছে
অনন্ত আকাশের এক ফোঁটা নীল,
যেখানে হারিয়ে গেছে
তোমার না বলা কথা।
প্রতিবার খুলি ওটা,
তাকিয়ে থাকি সেই শূন্যতার দিকে।
কেমন যেন এক অদ্ভুত টান—
যেন মনে হয়,
শব্দ না থেকেও সে সবকিছু বলে দেয়।
তোমার ভালোবাসা,
তোমার অভিমান,
তোমার অসমাপ্ত প্রতিশ্রুতি।
তুমি হয়তো জানো না,
এই শূন্য চিরকুটে আমি লিখি
আমার প্রতিদিনের অনুভূতি।
তোমার অনুপস্থিতিতে
জমে থাকা অগণিত প্রশ্ন।
শূন্যতার মধ্যেই
তোমাকে খুঁজে পাই বারবার।
আমি ভাবি,
তুমি কেন শূন্য রেখে পাঠালে?
কেন এমন নিঃশব্দ বার্তা?
তুমি কি ভেবেছিলে,
আমি বুঝে নেব সব?
না কি এটাই ছিল
তোমার বিদায় নেওয়ার শেষ ভাষা?
আজও,
তোমার সেই শূন্য চিরকুট
আমার কাছে আগলে রাখা।
প্রতিটি দিনের আলো,
প্রতিটি রাতের আঁধারে
আমি খুঁজি ওর ভাঁজে
তোমার অস্তিত্বের চিহ্ন।
তুমি যদি আরেকবার পাঠাও,
আমি হয়তো এবারও কিছু বুঝব না।
তবু সেই শূন্যতাই হবে
আমার হৃদয়ের সবচেয়ে কাছের সঙ্গী,
যেখানে নীরবতা কথা বলে
অন্তহীন ভালোবাসার ভাষায়।
শূন্য চিরকুট পর্ব -৬
তোমার হাতের ছোঁয়া লেগে থাকা,
এক টুকরো কাগজ।
যার ভাঁজে ভাঁজে মিশে আছে
এক গভীর নীরবতার সুর।
আমি প্রতিদিন তাকিয়ে থাকি ওটার দিকে,
যেন শূন্যতার ভেতর কিছু লেখা আছে,
যা আমি পড়তে পারিনি তখন।
তুমি কি বলতে চেয়েছিলে কিছু?
নাকি নীরবতাই ছিল
তোমার সব চাওয়া-পাওয়ার উত্তর?
তোমার না লেখা শব্দগুলো
আজও আমার মনে বাজে।
তোমার নীরব দৃষ্টির মতো,
যা সবকিছু বলে দিয়েও
কিছুই বলে না।
তুমি কি জানো?
এই শূন্যতাই
আমার হৃদয়ে গভীর বেদনার জন্ম দিয়েছে।
এ যেন তোমার দেওয়া এক
অজানা প্রশ্নের উত্তর খোঁজার পথ।
আমি খুঁজে ফিরি শব্দহীন ভাষার
তোমার সেই না বলা গল্প।
তবু, আমি রাগ করি না।
আমি জানি,
তোমার সেই শূন্য চিরকুট
তোমারই মতো,
যে কথা বলে নীরবতায়।
আমি শুধু অপেক্ষায় থাকি,
কবে সেই শূন্যতার ভেতর থেকে
তুমি আমার কাছে ফিরে আসবে।
যদি কখনো ফিরে এসে
তুমি আরেকটি চিরকুট পাঠাও,
তাও শূন্য থাক,
আমি পড়ে নেব তোমার নীরবতাকে।
কারণ তোমার শূন্যতা—
তোমার নীরব উপস্থিতি—
আমার জীবনের গভীরতম অনুভূতি।