রাতজাগা নদী

রাঁতজাগা নদী
সামীউল ইসলাম শামীম


অন্ধকার রাতের নিঃশব্দ ঢেউ,

বয়ে চলে নদী, কেউ নয় তার সঙ্গী।

তীরের শূন্যতা ডাকে তাকে বারবার,

তবু সে গায় নিজস্ব এক ভিন্ন সুরের গান।


তার স্রোতে মিশে যায় জোৎস্নার রূপকথা,

আলোছায়ার খেলায় সে রচনা করে ছন্দ।

তার বুকের জলে জেগে থাকে স্মৃতির প্রতিচ্ছবি,

কেউ দেখে প্রেম, কেউ দেখে অশ্রুর নদী।


চাঁদ তাকে ছুঁয়ে যায় নীরব স্পর্শে,

তার ঢেউয়ে বাজে অসীমতার সুর।

পাহাড়, পাথর, গাছের শিকড় ধরে তাকে,

তবু সে মুক্ত, সে অনন্তের পথের পথিক।


নদীর চোখে আছে হাজার রাতের গল্প,

তবু সে চুপ, সময়ের কাছে মেলে ধরা নিজেকে।

তার গভীরতা লুকিয়ে রাখে কালের রূপ,

রাতের অন্ধকারে সে হয়ে ওঠে এক কবিতা।


নিভে যাওয়া রাতেও সে বয়ে চলে ধীর,

দিনের আলোতে হয় সে অতীতের এক ছবি।

তবু রাত এলেই আবার জেগে ওঠে সে,

নতুন গল্প নিয়ে, নতুন ছন্দের আহ্বানে।


রাঁতজাগা নদী পর্ব -২


জ্যোৎস্নার চাদরে মাখা তার শরীর,

অবিরাম স্রোতে খুঁজে ফেরে গহীন।

তীরহারা ভাসে, কারো নেই ঠিকানা,

রাতজাগা নদী, একা সঙ্গোপনা।


তার ঢেউয়ের কথা বাতাসে ভাসে,

স্মৃতির কোলাহল মন কে ঘিরে আসে।

জোনাকির আলোয় সে আঁকে যে ছবি,

মুগ্ধতায় ভরে যায় রাতজাগা নদীর নবি।


চাঁদের প্রতিচ্ছবি ভাঙে তার বুকে,

তবু নদী চায় চলতে সবার সুখে।

তীরের কাঁদানে গল্প শুনে সে চুপ,

তবু তার স্রোত গায় জীবনের রূপ।


রাত শেষ হলে সে রবে চুপিচুপি,

দিনের আলোয় হারায় রাত্রির রূপকথা।

তবু মনে রাখে, অমলিন স্মৃতি,

রাতজাগা নদী, একা চলার গীতি।


রাতজাগা নদী পর্ব -৩


রাতের আকাশে তারাদের মেলা,

নদীটি জাগে নিরালায় একা।

চাঁদের আলোয় ঢেউয়ের খেলা,

মনে পড়ায় সুরেলা রেখা।


স্রোতের মাঝে সুরের দোলা,

নদী বলে, “আমি আজ বেলা।

কোথাও গিয়ে হারাইনি কভু,

জীবনের পথ শুধু স্রোতের উৎসব।”


তীরের কাঁশফুল নীরবে হাসে,

রাতের নীরবতা মনকে ভাসে।

জোনাকির ঝলক, বাতাসের গন্ধ,

নদীর বুকে বাজে এক গোপন ছন্দ।


নদীর বুক চিরে নৌকো ভেসে চলে,

তাল গাছের ছায়া পড়ে গভীর জলে।

রাতজাগা নদী, তার স্রোতের কাহিনি,

জীবনের রূপ যেন এক নিরব কবিতা সখিনি।


রাতজাগা নদী পর্ব -৪


রাতের কোল ঘেঁষে, বয়ে চলে এক নির্জন নদী,

তার স্রোতে লুকানো কত কথা, কত স্মৃতি।

তারা ভরা আকাশের নিচে সে গায় নিঃশব্দ গান,

চাঁদের আলোয় ছড়িয়ে পড়ে তার রূপের সম্মান।


তীরে বসে রাত জাগা পাখি শোনে তার দীর্ঘশ্বাস,

নদীর জলে মেশে কালের বয়ে যাওয়া আভাস।

তার ঢেউয়ে বাজে জীবনের নানা সুরেলা তান,

কখনো সুখের ছোঁয়া, কখনো দুঃখের হাহাকার।


তীরের মাটি তাকে ডাক দেয় মায়ের মতো,

সে বলে, "আমি তো পথিক, আমি থামি না কোনোদিন।"

তবু মাঝেমধ্যে সে হারায় নিজের স্রোতের মাঝে,

ভাবনায় ডুব দেয়, কোথায় গন্তব্য তার এই পথযাত্রার শেষে।


রাতের আঁধারে সে দেখে আকাশের বিশালতা,

তাকে মনে হয়, "আমিও তেমন, অনন্তের বারতা।"

তবু তার চলা থামে না, চুপচাপ সে বয়ে যায়,

নীরবতার ভেতর সে গড়ে তোলে এক মহাকাব্য।


রাতজাগা নদী এভাবেই বয়ে যায় নিরবধি,

তার বুকে লেখা থাকে জীবনের অপার গীতিধারা।


রাতজাগা নদী পর্ব -৫


রাতের নীরবতা বুকে, ঝিলমিল জলের ঢেউ,

অন্ধকারে নদীটা জেগে থাকে তার চিরন্তন বয়ে।

তার শরীরে জোনাকির আলোর মায়াবী খেলা,

তীরে দাঁড়িয়ে চাঁদ যেন তার একান্ত সখা।


পাথরের চুম্বনে বাজে সুরেলা এক বেহালা,

স্রোতের শব্দে মিশে যায় কালের গহীন ডাক।

গভীর অন্ধকারেও তার কোনো ভয় নেই,

সে বয়ে চলে, নিয়ে যায় জীবনের কাহিনী।


তীরের গাছেরা দোলায় তার কানে গোপন কথা,

পাখিরা ঘুমিয়ে পড়ে, কেবল সে জাগে নিরবধি।

তার জলরাশিতে খেলে স্মৃতির চিত্রপট,

কেউ দেখে সুখের ধারা, কেউ দেখে অশ্রুর ফল।


রাতজাগা এই নদী জানে সব হারানোর গান,

জানে প্রাপ্তির সুখে লুকানো হাহাকারের মান।

তার বুকের ঢেউয়ে লুকানো কত না গল্প,

অতীত আর ভবিষ্যৎ মিশে যায় যেখানে চিরকাল।


সকাল হলে সে আবার হয়ে যাবে নীরব,

তবু রাত এলেই সে গেয়ে যাবে নিজের রূপকথা।

Popularpoetswriter

আমি আমার অবসর সময়ে কবিতা লিখতে অনেক পছন্দ করি।

Post a Comment

Previous Post Next Post