অন্তপুরসামীউল ইসলাম শামীম
অন্তপুর পর্ব -২
চোখের ভাষা বলে যত কিছু,
অন্তপুরে সেগুলোই থাকে লুকানো।
বাহিরের ভিড়ে যত মুখ হাসে,
ভিতরটা নীরব, একা, অচেনা পাথানো।
আলোর নিচে ছায়া লুকায়,
কামনার দেয়ালে স্মৃতির ছবি।
কেউ জানে না, ওই নীরব কক্ষ,
তোমার নামে ভেসে যায় রবি।
যেখানে সুর বেজে উঠে নীরবতায়,
কান্নাও থেমে যায় কোমল ছোঁয়ায়।
ওই অন্তপুর, হৃদয়-গুহা,
তোমার আমার ব্যথার দহা।
না বলা কথা, না শোনা গান,
বসে থাকে আজও নির্জন জানালায়।
আকাশের তারা পড়ে মনে,
তুমি কি তখনো ছুঁয়ে যাও হাওয়ায়?
অন্তপুরে প্রেম জেগে থাকে,
কখনো সাদা, কখনো রঙীন।
তুমি ফিরলে—জানবে সেদিন,
ভালোবাসা হারায় না, সে থাকে বিন্দুতে বিন্দু বিন্দু…
অন্তপুর পর্ব -৩
প্রাসাদের অন্তপুরে, গোধূলির ক্ষণ,
নির্জন দেয়ালে ঝুলে চুপ কালের মন।
রানীর চোখে ধরা পড়ে ক্লান্তি,
স্বর্ণচূড়া বরণেও লুকায় যে ভ্রান্তি।
চূড়ায় চূড়ায় বাজে মৃদু বীন,
সুরের ভিতর ঘুমায় এক প্রাচীন দিন।
সোনালী মেঝেতে পড়ে আঁচলের রেখা,
জানো না কেউ—তাকে কে এসে দেখে!
রাত্রির তলে, চাঁদের আলোয়,
এক যোদ্ধা চুপিচুপি আসে স্বপ্ন ছোঁয়।
তার নয়নে দীপ্তি, তবু দৃষ্টি নত,
প্রেমের রাজ্য গোপন, তবে কত অমলিন সত্য!
কাঁসার থালায় খাবার সাজানো,
তবু হৃদয়ের খিদে অনেকদিনের বঞ্চিত।
অন্তপুর চায় না শুধু শোভা,
সে চায় ভালোবাসা—নিঃশব্দে রচিত।
সেদিনও চাঁদ উঠেছিল আকাশে,
তারা গুনেছে, বাতাস থেমেছে নিশ্বাসে।
তবুও ইতিহাসে নাম লেখা হয়নি—
অন্তপুর জানে, তারা আজও একে অন্যে জড়িত রয়।
অন্তপুরের রাত পর্ব -৪
চাঁদের আলো ঢুকে পড়ে ঝিলমিল ফাটলে,
অন্তপুরে রাত জাগে কপালের ছাঁটে।
রানীর চোখে বয়ে চলে দুধসাদা স্বপ্ন,
প্রেম কি ফিরে আসে প্রহরের গন্তব্য?
দেয়ালের ছবি, নিঃশ্বাসের গন্ধ,
কী এক নীরবতা বাজে অন্তরের ছন্দ।
পায়ের নূপুর থেমে গেছে কবেই,
তবু শুনি—একটা হৃদয় ডাকে কবে ‘তুমি’।
গহীনে গহীনে প্রেম জেগে থাকে,
না-পাওয়া সুখে চোখ টলে ওঠে আঁখে।
সোনার আসনে শরীর বসে,
আর আত্মা কোথায়—সে তো জানে শুধু সেই প্রভাতের কথা!
একদিন হয়তো সে ফিরবে হেঁটে,
নিঃশব্দে ছুঁয়ে যাবে গহনার পেটে।
রানী নয়, কেবল এক নারী,
যার অন্তপুরে আজও জ্বলছে রাতভর একাকী বারি।
