লাল চিঠিসামীউল ইসলাম শামীম
নিজেকে সপে দিয়েছি,
লাল লেখা চিঠির খামে!
কোন পাতা খালি রাখিনি;
বিক্রি করে দিয়েছি অল্প দামে।
শহরের কোলাহলে আমি
ছিলাম একা দাঁড়িয়ে,
তুমি এলে এক বিকেলে,
হাতটা আমার জড়িয়ে।
দুচোখ ভরা স্বপ্ন তুমি
ধরে রাখলে কত যতনে,
আমি লিখতে লাগলাম গল্প,
তোমার নামের পাতায়-পাতায়।
প্রতিটি লাইনে কালি দিলাম
মনভরা ভালোবাসায়,
তুমি পড়লে হাসি মুখে,
আমি হারালাম আশায়।
একদিন এলো ডাকপিয়ন,
খাম ভরা খবর নিয়ে,
তোমার চিঠি ফিরিয়ে দিলো—
“রিসিভার নেই” লেখা দিয়ে।
আমি ভেঙে পড়লাম তখন,
তবু কলম থামল না,
প্রতিটি শব্দে ডুব দিলাম,
যেন তুমিই আমার সোনা।
বিকেলের আকাশ লাল হল,
চাঁদ ডুবল কুয়াশায়,
তুমি কোথায়, ভাবতে ভাবতে
মন ডুবল নিরাশায়।
শহরের মোড়ে দাঁড়িয়ে আমি
তোমার ছবি খুঁজে বেড়ালাম,
প্রতিটি মুখে, প্রতিটি চোখে—
তোমার ছায়া আঁকড়ালাম।
পকেটে তখন শুধু ছিলো
একটা পুরনো ডাকটিকিট,
যা দিয়ে পাঠাবো ভেবেছিলাম
শেষ ভালোবাসার নোটটি।
আমি লিখলাম—
"যদি কখনো ফিরতে চাও,
আমার ঠিকানা বদলায়নি,
তুমি আসলেই খুলে যাবে
বছরের পর বছর আটকে থাকা জানালাটি।"
খামের কোণে আঁকলাম হৃদয়,
মাঝখানে তোমার নাম,
ডাকপিয়নের হাতে দিলাম,
বললাম—"শুধু একবার, ওর কাছে যাক!"
দিন কেটে গেল, বছর এল,
শহর বদলালো রঙ,
কিন্তু ডাকপিয়ন ফেরেনি আর—
তোমার খবর আনেনি সংগে।
আজও মাঝে মাঝে খুলি
সেই পুরনো খামখানি,
দেখি আমার লেখা অক্ষরগুলো
ঝাপসা কালি হয়ে আছে জানি।
ভেবেছি—দাম খুব কমে দিয়েছি,
তবু তুমিই ছিলে ক্রেতা,
আজও যদি আসো ফিরে,
আমি দেবো বিনা মুল্যে—
আমার সবটুকু হৃদয়,
আমার জীবনের বাকি লেখা।