সাগরের নিচে জাদুঘর লেখক:সামীউল ইসলাম শামীম

সাগরের নিচে জাদুঘর 
সামীউল ইসলাম শামীম


ঢেউয়ের নিচে ঢেউয়ের ভাষা,

নীরবতারও আছে যে আশা—

নীল অন্ধকার, গভীর জলে

ঘুমিয়ে আছে ইতিহাসের ভেলা।


ওখানে নেই দেয়াল-ছাদ,

নেই কোনো পাহারাদার—

তবু দাঁড়িয়ে শত শত মানুষ,

পাথরে বাঁধা জীবনের ভাষ্যকার।


চোখ বন্ধ করা অবয়বগুলো

চিৎকার করে নীরবতায়,

বলে—

“আমরা দেখেও দেখিনি,

শুনেও শুনিনি প্রকৃতির কান্নায়।”


এটা কোনো মূর্তি নয় শুধু,

এটা ভুলের দলিল,

এটা সভ্যতার আয়না—

যেখানে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে

মানুষ দেখে নিজেরই খিল।


কেউ দাঁড়িয়ে মোবাইল হাতে,

চোখে নেই আকাশের নীল,

কেউ বসে আছে ক্লান্ত হয়ে

স্বপ্নগুলো করেছে নিলাম-সিল।


এই জাদুঘর শেখায় না তারিখ,

লিখে না রাজাদের নাম—

এখানে খোদাই করা থাকে

মানুষের অবহেলার দাম।


সময় গেলে পাথরের গায়ে

জন্ম নেয় সবুজ প্রবাল,

মাছেরা এসে বলে যায়—

“ভুলেও ভালো জন্মায়, দেখো,

এই তো উদাহরণকাল।”


মানুষ ভেবেছিল জয় করেছে,

সমুদ্রকে করেছে বশ—

সমুদ্র হেসে জবাব দিল

জীবন দিয়ে, প্রতিশোধ নয়—পরশ।


এখানে যুদ্ধ নেই, তবু হার,

এখানে শব্দ নেই, তবু ডাক—

প্রতিটা মূর্তি প্রশ্ন করে,

“তোমরা কোথায় ছিলে তখন,

হে মানবজাতির পাক?”


ওহে সভ্যতার অহংকার,

ওহে কংক্রিটের সন্তান,

যেদিন শহর নামবে জলে

সেদিনই খুলবে এই জাদুঘরের দ্বিতীয় অধ্যায়—

তোমার নামেও থাকবে নিদর্শনখানা।


ভাবো একবার—

কক্সবাজারের গভীরে,

সেন্ট মার্টিনের নীল ছায়ায়

যদি দাঁড়িয়ে থাকে আমাদের গল্প—

তুমি কি ডুব দেবে দায়ে?


নাকি উপরে দাঁড়িয়ে বলবে,

“এটা আমার নয়”?

ইতিহাস তখন মুচকি হেসে

তোমার নামটাও খোদাই করে দেবে

আরেকটা পাথরের গায়ে।


সাগরের নিচে জাদুঘর

দেখার জন্য নয় বন্ধু,

বোঝার জন্য।


কারণ,

যে শোনে না প্রকৃতির ভাষা—

একদিন সে নিজেই

নীরব নিদর্শন হয়ে যায়

অন্য কারো জাদুঘরে।

Popularpoetswriter

আমি আমার অবসর সময়ে কবিতা লিখতে অনেক পছন্দ করি।

Post a Comment

Previous Post Next Post