গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুর
সামীউল ইসলাম শামীম
গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরের এই নিঃসঙ্গ প্রান্তরে,
চুপিসারে জ্বলে ওঠে রোদ্দুরের অগ্নি-উৎসব।
মাঠের বুক জুড়ে শুধু কাঁপে তৃষ্ণার্ত বাতাস,
চৌচির মাটির বুকে যেন খুঁজে ফেরে আশ্বাস।
গাছের পাতারা আজ ক্লান্ত, ঝিমিয়ে পড়ে,
পাখিদের গান থেমে গেছে অনেকক্ষণ আগে।
গোলাপি সূর্যের তীব্র আলো গায়ে পোড়ে,
মনে হয়, এ যেন অনন্ত দাহের প্রকোপ।
পথে হেঁটে চলা কৃষকের মলিন মুখ,
শুধু বলে দেয় জীবনের এক অসম যুদ্ধ।
ঘামে ভেজা শরীর নিয়ে সে তাকায় আকাশে,
বৃষ্টি নামবে কি? এমন আকুল প্রশ্ন মনের মাঝে।
পুকুরের জলটুকু উষ্ণ হয়ে জাগায় স্মৃতি,
শৈশবের দুপুরে দাদার সঙ্গে লুকোচুরি খেলা।
আজ সেই পুকুর শূন্য, শুধু ফাটলের গান,
গ্রীষ্মের দুপুরে যেন প্রকৃতি জানায় হাহাকার।
তবুও এই রোদের তলায় লুকিয়ে থাকে গল্প,
একটি বিশ্রামহীন জীবনের অপার প্রত্যাশা।
একটি বটগাছের ছায়ায় খুঁজে পায় শান্তি,
গ্রীষ্মের ক্লান্ত দুপুরেও থাকে ছন্দের রাশি।
যখন সন্ধ্যার ছায়া নামে ধীরে ধীরে,
তপ্ত দুপুরের স্মৃতি মুছে বয়ে যায় বাতাস।
গ্রীষ্মের দিন শেষ হয়, নতুন স্বপ্ন আসে,
তবুও গ্রীষ্মের দুপুর তার নিজস্ব গানে ভাসে।
গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুর পর্ব -২
গ্রীষ্মের দুপুর, এক নির্মম রুদ্র রূপ,
আগুনে পুড়ে যেন ছাই হয়ে যায় মন।
চৈত্রের শেষ প্রান্তে এই বেলা নিয়ে আসে,
মরুভূমির মতো শূন্যতার এক দীর্ঘ কল্পন।
পথের ধারে শুকনো পাতার স্তূপ,
বাতাস নেই, থেমে আছে সময়।
কোনো পাখি ডাকে না আজ, নির্জন আকাশ,
সূর্যের করাল দাহ যেন জীবনকে করে ন্যুব্জ।
দূরের নদী, আজ সে শুধুই স্মৃতি,
তলানিতে জমে থাকা জলে প্রতিফলিত সূর্যের আগুন।
মাঠের কৃষকের চোখে শুধুই অনন্ত আশা,
এক পশলা বৃষ্টি যেন আনে জীবনের ভাষা।
মাঠের ধুলো উড়ে এসে ঢেকে দেয় শহর,
তপ্ত ইটের রাস্তা ফাটলের গল্প বলে।
গাছেরা যেন ক্লান্ত সৈনিক, পাতা ঝরে পড়ে,
আর চড়ুইপাখি খুঁজে ফেরে ছায়ার কোণে।
জলপাইয়ের বাগানে শূন্য বাতাসের খেলা,
সেখানে দাঁড়িয়ে থাকে এক বৃদ্ধ বটগাছ।
তার ছায়ায় বসে এক শিশু, মায়ের কোলে,
তপ্ত দুপুরে সেই মুহূর্ত যেন একমাত্র স্বস্তি।
তবুও এই দুপুরে, প্রকৃতির গোপন ভাষা,
দেখায় সাহস, দেখায় অপেক্ষার রং।
তীব্র রোদ পুড়িয়ে দেয় যে মাটি,
সেই মাটিতেই জন্ম নেয় আগামী দিনের স্বপ্ন।
গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরের গল্প যেন চিরকাল,
জীবনের এক প্রান্তে হাহাকার, অন্য প্রান্তে গান।
যেখানে দাহ আর শান্তি পাশাপাশি বেঁচে থাকে,
প্রকৃতির এই রূপে লুকিয়ে থাকে জীবন গাঁথা।
গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুর পর্ব -৩
গ্রীষ্মের দুপুর, আগুন ঝরানো আলো,
চারিদিক ভরা তৃষ্ণার্ত সময়ের কাহন।
পথঘাট জুড়ে নিঃসঙ্গতার সুর বাজে,
মানুষ যেন লুকিয়ে থাকে গৃহের আড়ালে।
পুকুরপাড়ে বসে শুকনো জলাভূমি,
মাছেরা নেই, শুধু শূন্যতার ঢেউ।
গাছেরা ক্লান্ত, তাদের পাতায় নেই নাচ,
তপ্ত বায়ু শুধু ছুঁয়ে যায় একাকী প্রাণ।
পথচলতি এক বৃদ্ধ, হাতে বাঁশের লাঠি,
মাথায় ভাঙা টুপি, চোখে রোদের কষ্ট।
তপ্ত রাস্তায় তার পদচিহ্নের ছাপ,
মনে হয় যেন একটি কবিতার অবিনশ্বর ছায়া।
দূরে মাঠে কৃষাণ দাঁড়িয়ে নির্লিপ্ত,
রোদে পোড়া মাটির গন্ধ তার সঙ্গী।
মাথার ঘামে ভেজা শরীর, তবু হাল ছাড়ে না,
এই দুপুর তার শক্তির পরীক্ষার মঞ্চ।
আকাশে এক ফোঁটা মেঘের ছায়া নেই,
সূর্য যেন প্রখর আগুনের প্রদীপ।
পাখিরা গাছের কোণে নিশ্চুপ,
তাদের সুর হারিয়েছে রোদের দাবদাহে।
তবুও এই গ্রীষ্মের দুপুরে লুকিয়ে থাকে গান,
আগামীর অপেক্ষায় প্রকৃতির এক সুর।
ক্লান্ত দুপুর শেষে আসে শান্তির বিকেল,
রাতের চাঁদ বলে, “এ দুঃখও ক্ষণিকের।”
গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুর, জীবনকে শেখায়,
যন্ত্রণা আর শক্তির অদ্ভুত মেলবন্ধন।
রোদ্দুরে পোড়া বুকে জন্ম নেয় নতুন আশা,
গ্রীষ্মের এই দিন তাই অমর হয়ে থাকে।